মেনু নির্বাচন করুন

ইতিহাস

রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় পশ্চিম ও উত্তর এলাকা জুড়ে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ অবস্থিত । এর আয়তন ২৯.৯৮ বর্গ কিলোমিটার । জনসংখ্যা ৩২১২০ জন । শিক্ষিত জনসংখ্যা হার ৬২% জন । শতকরা ৭৫ জন কৃষি নির্ভর । সামান্য একটি অংশ ব্যবসা ও চাকুরী নির্ভর । জযনগর ইউনিয়ন পরিষদ  এলাকার পূর্বে দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা দক্ষিণে পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়ন পশ্চিমে পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা আর উত্তরে বাগমারা উপজেলা রয়েছে ।

 

১৯২২ সালে বৃটিশ শাসনামলে ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন বোর্ড নামে আত্নপ্রকাশ করে যা পাকিস্তান আমলে জয়নগর ইউনিয়ন কাউন্সিল নামে পরিচালিত হয় । বৃটিশ আমলে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রধানকে বলাহত প্রেসিডেন্ট । প্রেসিডেন্টদের ধারাবহিক নামের তালিকা পাওয়া যায নাই । আর পাকিস্তান আমলে মৌলিক গনতন্ত্রের নিয়মে সর্ব প্রথম নির্বচিত চেয়ারম্যান ।

 

স্বাধিনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের জানুয়ারি জয়নগর ইউনিয়ন কাউন্সিল নাম পরিবর্তন করে ইউনিয়ন পরিষদ নাম ধারন  করে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়। স্বাধিনতা পরবর্তী নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করা হয় । এবং তারা ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করেন ।

 

এলাকাটি আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কারণ হিসাবে দেখা যায় এলাকায় শিক্ষিত মানষের সংখ্যাছিল একেবারেই নগন্য । রাস্তাঘাট ছিলনা । বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নৌকা আর শুকনো মৌসুমে গরুর গাড়ী । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে মাত্র কয়েকটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় । শিক্ষিত নারীর নাম কনেও শোনা যেত না । কৃষিখাত ছিল প্রকৃতি নির্ভর । পরবর্তীতে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসারিত হয়েছে । ১৯ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত অত্র ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছযটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় দুইটি দাখিল মাদ্রাসা, দুইটি ডিগ্রী কলেজ দুইটি টেকনিক্যাল কলেজ আছে । এ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে গণশিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি নারী শিক্ষার হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । যা আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে ।

 

 জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার এই প্রত্যেকে জন পদের প্রাণ কেন্দ্র হচ্ছে হাটকানপাড়া বাজার । হাটকানপাড়া বাজারের বিশেষ দিক হলো শুধু দূর্গাপুর উপজেলা নয় রাজশাহী জেলার অন্যতম কাচা সবজির হাট । এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যায় । যার ফলে হাটকানপাড়া বাজার অত্র ইউপির প্রান কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত । এমনকি অনেকে বলে দূর্গাপুর উপজেলার রাজধানী হলো হাটকানপাড়া বাজার ।

 

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই জন পদের মানুষ অনেকটাই সুবিধা বঞ্চিত । তিনটি স্যাটালাইট ক্লিনিক সহ একটি পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র আছে । যেখানে মা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় । অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষ দূর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা রাজশাহী শহরে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে ।

 

আইন শৃংখলার ক্ষেত্রে এলাকা শান্তিপূর্ণ বলা যায় । রাজনৈতিক সহন শিলতা বিদ্যমান । উগ্র জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা নাই । মাদকের কিছুটা প্রভাব থাকলেও দেশীয় মাদক উৎপাদনের ক্ষেত্রেগুলি প্রশাসনিক তৎপরতায় উচ্ছেদ করা হয়েছে । বাল্য বিবাহের প্রবনতা এখনো সামাজে বিদ্যমান । অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এলাকা শান্ত ও শান্তিপূর্ণ ।

 

কৃষি ক্ষেত্রে মাছ চাষ ব্যপক বিস্তার লাভ করেছে । তবে আবাদী কৃষি জমি পুকুর খনন করতে গিয়ে সংকুচিত হচ্ছে । পশু পালনের মাধ্যমে আর্থিক অগ্রগতি লক্ষনীয় ।

 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলতে এই এলাকায়  ব্রাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, ব্যুরো বাংলাদেশ সহ কিছু এনজিওর আর্থিক সহযোগীতা ও ক্ষদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসা, পশু পালন ও কৃষিখাত সমৃদ্ধি লাভ করেছে ।